26 বার ভিউ
"রোগ ব্যাধি" বিভাগে করেছেন

বুক জ্বালাপোড়া হলে কি করবো জানতে চাই ?

বুক জ্বালাপোড়া হলে কি করবেন

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

বুক জ্বালাপোড়া হলে কি করবেন

শারীরিক সমস্যার মধ্যে বুক জ্বালাপোড়া একটি বড় সমস্যা। বুক জ্বালা পোড়া হচ্ছে-বুকের ভিতরের মধ্যবর্তী স্থান থেকে শুরু করে গলা পর্যন্ত জ্বালাকর অনুভুতি। এই সমস্যা অনেকেরই দেখা যায়। কিন্তু এই বুক জ্বালাপোড়া করলে তাৎক্ষণিক কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে আমাদের অনেকেরই জানা নেই। বর্তমানে এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে একবারের জন্যও বুক জ্বালাপোড়া সমস্যায় ভুগে নাই। তাই আগে জানতে হবে বুক জ্বালাপোড়া কি কারণে হয়? এবং কি হতে পারে এর প্রতিকার?

বুক জ্বালপোড়ার কারণ কি?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দীর্ঘ দিনের গবেষণায় বুক জ্বালাপোড়ার যে সকল কারণ বেরিয়ে এসেছে সেগুলো হচ্ছে-

অ্যালকোহল সেবন করা।

চা, কফি অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করা।

কালো গোল মরিচ, সিরকা যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।

তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া বেশি পরিমাণে খেলে বুক জ্বালাপোড়া হয়।

আচার, টমেটোর সস, কমলার রস, পেয়াজ, পিপারমেন্ট ইত্যাদি খাবার বুক জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দেয়।

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তাও বুক জ্বালাপোড়ার জন্য দায়ী।

ধুমপান হচ্ছে বুক জ্বালাপোড়ার আরও একটি অন্যতম কারণ।

পিত্ত থলিতে পাথর থাকলেও বুক জ্বালাপোড়া হয়।

পাকস্থলীর উপর চাপ পড়লে বুক জ্বালাপোড়া হয়। পাকস্থলীর উপর চাপ বলতে বুঝায়- এক সাথে বেশি পরিমাণ খাওয়া, স্থুলতা, গর্ভাবস্থা, শক্ত ও মোটা বেল্টের প্যান্ট পড়া ইত্যাদি।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে বুক জ্বালাপোড়ার লক্ষণ কি কি হতে পারে। আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আপনি আসলেই বুক জ্বালাপোড়ায় ভুগছেন।

বুক জ্বালাপোড়ার লক্ষণ:

পেটের উপরের দিকে মৃদু ব্যথ্যা হওয়া।

বুকে ব্যথ্যা হওয়ার সাথে জ্বালা ভাব থাকে।

বুক জ্বালা কখনও খাবার গ্রহণের পরে হয়। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে পেট খালি থাকলে হয়।

মাঝে মাঝে ঢেকুর উঠে।

মুখে তিতা স্বাদ অনুভুত হওয়া। এই ঘটনা সকালের দিকে বেশি ঘটে।

স্বরভঙ্গ – স্বরভঙ্গ হচ্ছে বুক জ্বালপোড়ার একটি অস্বাভাবিক লক্ষণ। ঠাণ্ডা

লাগার প্রথম অবস্থায় যে রকম হয় ঠিক সে রকম হয়। অমস্ন বা এসিড গলা পর্যন্ত উঠে আসার কারণে এরকম হয়। এসিড কন্ঠস্বরকে ভারি করে তোলে।

খাদ্য গ্রহণের পরপর কাশি শুরু হয়। পাকস্থলীর এসিড ফুসফুস পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে, বুক জ্বালার সাথে সাথে শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা হয়।

বমিবমি ভাব ও বমি হতে পারে। মুখে অতিরিক্ত লালা উঠতে থাকে।

দীর্ঘ দিন যাবৎ বুক জ্বালাপোড়া চলতে থাকলে এসিডের কারণে খাদ্যনালী সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে খাবার গিলতে কষ্ট হয়।

প্রতিকার:

একটি কথা প্রচলিত আছে যে, Prevention is batter then cure অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই সচেতন হওয়া ভাল। ওষুধ ব্যতীত বুক জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি পেতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা আমাদের সবার জন্য দরকার। নিয়ম গুলো হলো:

    যেসব খাবার ও পানীয় খেলে আপনার বুক জ্বালাপোড়া করে সেগুলো চিহ্নিত করুন এবং এড়িয়ে চলুন।

    ধুমপান বর্জন করুন।

    একসাথে বেশি পরিমাণে না খেয়ে কিছুক্ষণ (২ ঘণ্টা) পরপর অল্প অল্প করে খান। তাহলে খাবার দ্রুত হজম হবে। এবং পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও এসিড উৎপন্ন হবে না। এর পরিনামে আপনি বুক জ্বালাপোড়া হতে রেহাই পাবেন।

    খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়বেন না, ব্যায়াম করবেন না। ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন, তারপর ঘুমুতে যান।

    ঘুমানোর সময় বিছানা থেকে মাথাকে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি উচুতে রেখে শয়ন করুন।

    শরীরের বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলুন।

    ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। মোটা বেল্টের প্যান্ট পড়বেন না।

    মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে চেষ্টা করুন।

 

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
04 অক্টোবর "রোগ ব্যাধি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন দিপা

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.1k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...