975 বার ভিউ
"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে করেছেন

আকিকা কী কেন করতে হয় কীভাবে করতে হয় এবং ছেলে মেয়ের আকিকার প্রদ্ধতি কী একই নিয়মে করা যাবে আকিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই ?

শিশুর আকিকা কেন করবেন, কীভাবে করবেন ?

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

শিশুর আকিকা কেন করবেন, কীভাবে করবেন :

আকিকার মাঝে দাওয়াত কোনো মূখ্য বিষয় নয়। বরং জন্তু যবেহ করাই আসল কাজ। যবেহের পর গোশত কাঁচা বা রান্না; যে কোনোভাবেই বণ্টন করা যাবে। ব্যক্তির সুবিধার দিকে শরীয়ত দু’ রকমেরই অবকাশ দিয়েছে। কাজেই এক্ষেত্রে আড়ম্বরের নামে বিলম্ব করা কখনই উচিত হবে না।

সন্তান সম্পর্কে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, জন্মের সপ্তম দিনে তাদের আকিকা করা। ছেলে সন্তান হলে তার পক্ষ থেকে দু’টি ছাগল বা বকরি জবেহ করা। 

মেয়ে সন্তান হলে তার পক্ষ থেকে একটি ছাগল বা বকরি, অথবা কুরবানীর বড় জন্তুতে একটি অংশ দেওয়া। 

[মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৩, সুনানে তিরমিযী : ১/২৭৮, সুনানে আবী দাউদ : ২/৩৯২, হাদীস নং : ২৮৩৪, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১/২৩৮, হাদীস নং : ৩১৬২, সুনানে নাসায়ী : ২/১৮৭, হাদীস নং : ৪২২২]

এক বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন― জন্মের সপ্তম দিনে সন্তানের নাম রাখো। 

তার মাথার চুল কর্তন করো এবং তার আকিকা সম্পন্ন করো।

[তিরমিযী শরীফ : ২/১১০, নাসাঈ শরীফ : ২/১৮৭]

একটি দুর্বল সনদের হাদিসে এসেছে― চুল পরিমাপ করে তার সমপরিমাণ রৌপ্য (বা মূল্য) সদকা করে দাও। 

[সুনানে তিরমিযী : ১/২৭৮, হাদীস নং : ১৫১৯]

কিছু কিছু হাদিসে এ কথা এসেছে যে, যতোক্ষণ সন্তানের আকিকার না করা হয় ততোক্ষণ পর্যন্ত সে রোগ-ব্যাধি ও শয়তানের প্রকোপ থেকে নিরাপদ থাকে না। 

হাদীসের শব্দ হলো এ রূপ― ‘

হযরত সামুরাহ ইবনে জুনদুব রাদি. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- সন্তান আকিকার পূর্ব পর্যন্ত বন্ধক থাকে। কাজেই তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে আক্বীকা করতে হবে, নাম রাখতে হবে ও মাথার চুল মুণ্ডন করতে হবে। 

[সুনানে তিরমিযী : ১/২৭৮, হাদীস নং : ১৫২২, সুনানে ইবনে মাজাহ : ২/২২৮, হাদীস নং : ৩১৬৫, সুনানে নাসায়ী : ২/১৮৭, হাদীস নং : ৪২২৬, আবু দাউদ : ২/৩৯২, হাদীস নং : ২৮৩৭, মিরকাত : ৮/৭৮, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ : ১২/২২৬, ই‘লাউস সুনান : ১৭/১১৯]

উপরিউক্ত হাদীসসমূহ থেকে বুঝে আসে যে, আকিকা সন্তানের জন্যে শয়তানের প্রকোপ, নানা রোগ-ব্যধি থেকে নিরাপদ থাকার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল। কাজেই যতো দ্রুত সম্ভব সন্তানের আকিকা সম্পন্ন করা দরকার। বিনা কারণে দেরি করা সঙ্গত হবে না। 

আজকাল আমাদের সমাজে আকিকাকে কেন্দ্র করে নানা উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। বড় অনুষ্ঠান ও সাড়ম্বর আয়োজনের নামে আকিকার ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব করা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, সন্তান প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে গেছে; অথচ এখনো তার আকিকা সম্পন্ন হয়নি। যার কারণে আকিকার মূল উদ্দেশ্যই হাতছাড়া হয়ে যায়। পরবর্তীকালে আয়োজিত আকিকাটি নিরেট রুসম হয়ে পালিত হয়। এগুলো কখনই সঙ্গত নয়।

আকিকার মাঝে দাওয়াত কোনো মূখ্য বিষয় নয়। বরং জন্তু যবেহ করাই আসল কাজ। যবেহের পর গোশত কাঁচা বা রান্না; যে কোনোভাবেই বণ্টন করা যাবে। ব্যক্তির সুবিধার দিকে শরীয়ত দু’ রকমেরই অবকাশ দিয়েছে। 

কাজেই এক্ষেত্রে আড়ম্বরের নামে বিলম্ব করা কখনই উচিত হবে না।

ধন্যবাদ

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.1k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...