26 বার ভিউ
"ফেসবুক" বিভাগে করেছেন
ফেসবুকের নেশা কী করে দূর করব ?


1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

বর্তমান জীবনে ফেসবুকে আসক্তি এমন একটি সমস্যা যেটার বিস্তার প্রতিদিনই বাড়ছে। ফেসবুক একটা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং মিডিয়া কিন্তু এটা অনেক ক্ষেত্রেই আমাদেরকে Un-social করে ফেলছে।

নেশা বা আসক্তি দূর করার পদ্ধতি একেকজনের জন্য একেক রকম হতে পারে। তবুও আমি কিছু পয়েন্ট তুলে ধরছি।

১। নিজের পড়াশুনা বা কাজে মনোযোগ দিন। দিনের পড়া বা কাজ দিনেই শেষ করুন। এতে আপনার ফেসবুক ব্যবহারের সময় আপনাআপনি কমে যাবে।

২। আপনি আপনার দৈনন্দিন পড়াশুনা বা কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন self development এর জন্য কিছু করুন। সেটা হতে পারে কোন কোর্স করা, বিদেশী কোন ভাষা আত্মস্থ করা, ব্যায়াম করা, ভালো কোন মুভি দেখা ইত্যাদি। এটা আপনার ব্যক্তি এবং কর্মজীবনে উপকার দেবে।

৩। সম্ভব হলে মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন। এতে আপনি যে সময়টুকু বাইরে থাকবেন সেসময় আপনি চাইলেও ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন না। তার বদলে প্রকৃতি উপভোগ দেখুন। পাশের বন্ধুর সাথে গল্প করুন।

৪। পরিবারকে সময় দিন। মনে রাখবেন ফেসবুকে না দেখা বন্ধুরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে লাইক, কমেন্টের বেশি কিছু দিতে পারবে না। দিন শেষে আপনি আপনার পরিবারেরই একজন। আপনার খারাপ সময়ে তারাই আপনার পাশে থাকবে। তাদের সাথে গল্প করুন, সময় কাটান, বেড়াতে যান। পরিবারে কোন শিশু থাকলে তাদেরকে বিশেষভাবে সময় দিন।

৫। আপনি যদি ধর্ম বিষয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে ধর্মকর্মের দিকে মন দিন। ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করুন। এতে আপনার মন স্থির থাকবে।

৬। ঘন্টায় ঘন্টায় স্ট্যাটাস দেয়া বন্ধ করুন। আপনার বেশিরভাগ স্ট্যাটাসই সম্ভবত অন্য অনেকের বিরক্তির কারণ। আপনি একটা স্ট্যাটাস দিলেই আপনার ইচ্ছা হতে থাকবে একটু পর পর কতগুলো লাইক/কমেন্ট আসলো সেটা দেখার। লাইক, কমেন্ট দিয়ে ফেসবুক চলে, কিন্তু জীবন চলে না। যদি স্ট্যাটাস একান্তই দিতে হয় তাহলে প্রাইভেসি ‘অনলি মী’ করে রাখুন।

৭। রাত জেগে ফেসবুক ব্যবহার না করে সে সময়টাতে ঘুমান।

৮। ‘ফেসবুক’ থেকে ‘ফেস’ টা বাদ দিন। শুধু ‘বুক’ এর সাথে থাকুন। অর্থাৎ প্রচুর বই পড়ুন। সেটা গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা যেকোন কিছু হতে পারে। এসব বই থেকে এমন অনেক কিছুই আপনি শিখতে পারবেন যেটা হয়তো পাঠ্যবই থেকে আপনার জানার সুযোগ কম হবে। আপনার সাধারণ জ্ঞানের পরিধির সাথে সাথে এতে আপনার আইকিউ ও বাড়বে।

৯। ফেসবুকে ফ্রেন্ডলিস্ট ছোট করুন। আপনার যদি ফ্রেন্ডলিস্টে ৩০০০ বন্ধু থেকে থাকে তাহলে খেয়াল করে দেখুন তাদের মধ্যে হয়তো ৩০-৩৫ জন আপনার বাস্তবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ বা তাদের সাথে আপনার নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে। যাদের সাথে আত্মীয়তা নেই, বাস্তব জীবনে বন্ধুত্ব বা কোন সম্পর্ক নেই, বা কখনো দেখেনও নি তাদেরকে বিনাদ্বিধায় Unfriend করে দিন। এতে আপনার ব্যক্তিজীবনেও শান্তি থাকবে। ৩০০০ ফ্রেন্ড প্রতিদিন একটা করে স্ট্যাটাস দিলেও ত আপনাকে ৩০০০ স্ট্যাটাস পড়তে হবে, তাই না?

সব ধরণের নেশামুক্ত জীবনের প্রত্যাশা ও শুভকামনা।

পরামর্শ দিয়েছেন :

শাব্বির আলম

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.2k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...