"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে করেছেন

লম্বা জামা, টুপি, পাগড়ি কি সুন্নতি পোশাক? ইসলামিক ভাবে বিস্তারিত জানতে চাই ?

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

সুন্নতি পোশাক বলতে পোশাকের কোনো নির্দিষ্ট কাটিং সুন্নাহর মধ্যে নেই। সুন্নাহ বলতে আমি বোঝাচ্ছি, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের মধ্যে আসেনি। অর্থাৎ রাসূল (সা.)-এর সহিহ হাদিসের মধ্যে পোশাকের সুনির্দিষ্ট কোনো কাটিং রাসূল (সা.) জানিয়ে যাননি।

সুতরাং লম্বা জামা, টুপি, পাগড়ি এই পেশাকগুলো এভাবে রাসূল (সা.)-এর কোনো সহিহ হাদিসের মধ্যে আসেনি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) পাগড়ি ব্যবহার করেছেন মর্মে সহিহ হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) জোব্বা ব্যবহার করেছেন মর্মে সহিহ হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) পাগড়ির নিচে টুপিও পরেছেন মর্মে সহিহ হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে।

এগুলো রাসূল (সা.) ব্যবহার করেছেন, এটি প্রমাণিত হয়েছে, এটা রাসূল (সা.)-এর কাজ। তাই এই কাজগুলো কীভাবে ইসলামী শরিয়তের মধ্যে গুরুত্ব দেওয়া হবে, অর্থাৎ প্রকৃত অবস্থানটি কী হবে, এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ বা মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশ আহলুত তাহকিক, মাহকি ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, নবী (সা.) যেসব কাজ স্বভাবজাত বা মানুষের প্রকৃতিগত কাজ, সেগুলো সবই মূলত আদতের (অভ্যাস, প্রথা বা প্রচলন) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই রাসূল (সা.) এই কাজগুলো অভ্যাসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে, এগুলো ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ফলে দেখা গেছে যে এগুলো যদি ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতো, তাহলে সাহাবায়ে কেরামকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবেই পোশাক পরতে বা এভাবে কাজ করতে বলতেন। কিন্তু রাসূল (সা.) এভাবে বলেননি। তাই বোঝা যাচ্ছে যে এগুলো মূলত প্রথাগত প্রচলন বা আদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য এটাই, যে এগুলো মূলত প্রথা বা প্রচলনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, এগুলো ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়

তবে কেউ যদি মাথায় পাগড়ি পরেন অথবা মাথায় টুপি পরেন অথবা বড় জোব্বা পরেন, এই কারণে যে রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ করার জন্য, যে রাসূলুল্লাহ (সা.) পরেছেন, প্রমাণিত হয়েছে, সে কারণে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার কারণে, তাহলে অবশ্যই তিনি সওয়াব পাবেন, যেহেতু আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা কোরআনে কারিমের মধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।’

সুতরাং যেহেতু একটা নমুনা, আদর্শ, মডেল আমার সামনে আছে, এই মডেলের অনুসরণের কারণে, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর অনুসরণের কারণে তিনি সওয়াব পাবেন। শুধু ওই পোশাকের কারণে নয় বা পোশাকটাকে সুন্নাত আখ্যায়িত করার জন্য নয়। তাই সুন্নতি পোশাক বলতে যদি কেউ মনে করে থাকেন যে সুনির্দিষ্ট কোনো কাটিংকে, এই কাজটি শুদ্ধ নয়।

তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো পোশাক পরেছেন, এটি প্রমাণিত হলে, যদি কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসার কারণে, অনুসরণের কারণে পোশাকটি পরেন, তাহলে তিনি সওয়াব পাবেন, এতেও কোনো সন্দেহ নেই।


0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

ফজরের আজানের আগে বা পরে মসজিদের মাইকে ডাকাডাকি করা, সালাতের জন্য আহ্বান করা, হামদ-নাত পড়া, ওয়াজ করা অথবা দরুদ পড়া, সবটাই গুনাহের কাজ এবং বিদআত। এটি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

শুধু আজানটাই এখানে বৈধ এবং আজানটাই হচ্ছে সালাতের আহ্বান। তাই কোনোভাবেই এর মধ্যে নতুন করে কিছু আবিষ্কার করার কোনো বৈধতা নেই। যদি প্রয়োজন হতো, অবশ্যই আল্লাহর নবী (সা.) বলতেন যে, আজানের আগে আবার আহ্বান করো। আজানই তো আহ্বান, আজানের মাধ্যমেই তো আমরা সালাতের জন্য আহ্বান করে থাকি।

তাই আজানের পরে আর অতিরিক্তভাবে, নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে, নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছে, জামাত শুরু হয়ে যাচ্ছে, আপনারা আসুন, ইত্যাদি বক্তব্য দেওয়া হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি এবং সালফেস সালেহিনের আমল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা এ কাজকে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। তাই এ কাজগুলো বৈধ নয় 

আর রাসূল (সা.) যা করেছেন, আমাদের তাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ করলে বোঝা গেল যে আল্লাহর রাসূল (সা.) যে কাজটি করেছেন, তার চেয়েও আমরা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছি। রাসূল (সা.) যা করেছেন, সেটাই সংগত। সেটাই যথাযথ। সেটাই সুন্দর। সেটাই যথেষ্ট এবং সেটাই আমাদের আদর্শ।

প্রশ্ন-উত্তরে অংশগ্রহণ করে অর্থ উপার্জন জন্য এখানে নিবন্ধন করুন, বিস্তারিত জন্য এখানে প্রবেশ করুন

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর 57 বার প্রদর্শিত

5.3k টি প্রশ্ন

4.9k টি উত্তর

130 টি মন্তব্য

513 জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...