34 বার ভিউ
"স্বাস্থ্য টিপস" বিভাগে করেছেন

খাদ্যের সাথে সুস্বাস্থ্য কীভাবে জড়িত ?

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

খাদ্যের সাথে সুস্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আসুন একটি উদাহরণে জেনে নিই। Anorexia nervosa একটি খাদ্য গ্রহণজনিত সমস্যা যা সাধারণত অনাহার থেকে উৎপন্ন হয়। এটি যদিও সকল বয়সী ও লিঙ্গের মানুষের হতে পারে তথাপি ১৬ -৩০ বছর বয়সের মহিলাদের মাঝে এটি বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে মহিলারা তাদের ওজন কম রাখার জন্য বা দেহের অবয়ব ঠিক রাখার জন্য সর্বদা অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন। এতে তাদের ওজন কমতে থাকে। অনেক সময় রোগী খাদ্য গ্রহণের পর বেশি খাদ্য গ্রহণ করেছেন বলে মনে করেন এবং স্বেচ্ছায় বমি করতে থাকেন। অনেক সময় ওষুধ নেয়ার মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। তার দেহে ভিটামিন ও মিনারেলস এর ঘাটতি দেখা দেয়। দেহ দুর্বল হয়ে যায় এবং মারাত্বক পর্যায়ে রোগী মারাও যেতে পারেন।

লক্ষণঃ

Anorexia তে রোগীর খাদ্য সম্পর্কে ভীতি আসে। ফলে সে কম খাবার খায়। এতে করে যেসব উপসর্গ তার শরীরে দেখা যায় :

- বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন অনেক কম যায়।

- ওজন কম থাকলেও তিনি মনে করেন ওজন বেড়ে গিয়েছে।

- মহিলাদের গর্ভাবস্থায় না থাকার পরেও মাসিক ২-৩ টি বন্ধ থাকা।

- খাবারের প্রতি অনীহা।

- শুষ্ক ও ভঙ্গুর চুল।

- নিজের ইচ্ছায় বমি করা।

- শরীর এর গঠন ও উপাদান মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে যায়।

- ঠান্ডায় হাত পা অবশ হয়ে আসে।

- পেটে ব্যথা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

- রক্তচাপ কমে যেতে পারে।

- চর্বি কমে যাওয়ায় চামড়ায় খসখসে ভাব চলে আসে।

- কানের নিকটবর্তী গ্রন্থি বাড়ে বা ফুলে যায়।

কারণ :

মূলত যে কারণে এ রোগ দেখা দিতে পারে সেগুলো হল :

- বিভিন্ন হরমনের কারণে হতে পারে। যথাঃ Hypothalamic disturbances, Follicle-stimulating-hormone এর পরিমাণ কমে যাওয়া।

- পুষ্টিবিদদের মতে মারাত্মক অপুষ্টির কারণেও এ রোগ হতে পারে।

- পরিবারের কোন সদস্যের মাঝে এ রোগ থাকলে এটি অন্যদের হতে পারে।

- বেশি উচ্চাকাঙ্খা ও আত্মবিশ্বাস এর মাত্রা হ্রাস পেলেও এই রোগ বাড়তে পারে।

- আর এর প্রধান কারণ হল দেহের সুন্দর অবয়ব বজায় রাখার জন্য ইচ্ছাকৃত বমি করা এবং অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যায়াম করা।

পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মুলনীতিঃ

- anorexia nervosa খাদ্যের অভ্যাসগত সমস্যা। পুষ্টির ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এর চিকিৎসা সম্ভব। যেহেতু এটি খাদ্যাভ্যাস জাতীয় সমস্যা তাই রোগীকে প্রথমেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে পরামর্শ দিতে হবে। তার খাবারের প্রতি যে ভীতি তা দূর করতে হবে।

- রোগীর বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি চাহিদা নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক খাদ্য বজায় রাখতে হবে ওজন ঠিক রাখার জন্য। তাকে উচ্চ বায়োলজিক্যাল ভেলু যুক্ত খাবার দিতে হবে। যেমন; ডিম, দুধ। আস্তে আস্তে রোগীর ক্যলরি পরিমাণ বাড়াতে হবে।

- যে পরিবেশগত কারণে এ রোগ হয়ে থাকে তা দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার ও জ্ঞানীয় থেরাপি কাজ করে ভালো।

- কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে রোগীকে খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

- প্রাথমিক পর্যায়ে অল্প অল্প করে বার বার খাবার দিতে হবে। পরে ধীরে ধীরে উচ্চ ক্যালরির খাবারগুলো দিতে হবে।

- জুস, স্যুপ এই জাতীয় খাবার গুলো রোগীকে দিতে হবে, বিশেষ করে যাদের খাদ্যের প্রতি বেশি অনীহা আছে।

- প্রতি সপ্তাহে শরীর এর ওজন নিয়ে দেখতে হবে ওজন বাড়ছে কি না।

- রোগীর অবস্থা মারাত্মক হলে Tube feeding বা Hyper Alimentation দিতে হবে। তার মানসিক অবস্থা উন্নয়ন এর জন্য এন্টি ডিপ্রেসন ওষুধ দেয়া হয়।

সুতরাং দেখা যায় যে, খাদ্যের সাথে শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি এবং সুস্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খ্যাদের তারতম্যের কারণে শরীরে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করুন এবং শরীর ও মন সুস্থ রাখুন।

ধন্যবাদ

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.2k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...