31 বার ভিউ
"রোগ ব্যাধি" বিভাগে করেছেন
আমার সন্তানের বয়স ৩ বছর। জন্মের পর থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছে। এমন না যে খাওয়ার দাওয়ার সমস্যার কারণে হচ্ছে। নিয়মিত তরল খাবার খাওয়ানো হয়ে থাকে। তারপরও এই সমস্যাটি হচ্ছে। আর এর ফলে সন্তানের অনেক কষ্ট হয়। এই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী ?


1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন সম্পর্কে আমরা কমবেশি জানি। কিন্তু শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়, প্রতিকারই বা কী-সে সম্পর্কে ধারণা হয়তো আমাদের অনেকেরই নেই। অনেক শিশু আছে, দু-তিন দিন মলত্যাগ না করেও ভালো থাকে। আবার অনেকের এক দিন মলত্যাগ না করার কারণেই পেট ফুলে যেতে পারে। ব্যথায় শিশুটি চিৎকারও করতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য :

মলত্যাগ করতে কারও যদি অসুবিধা হয় অথবা বেশি সময় লাগে, তাকেই কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। অনেক সময় অসুস্থতার কারণে কম খাওয়ার ও অপর্যাপ্ত পানি পান করায় কিছুদিনের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। পরে সুস্থ হলে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু সব সময় কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এর কারণ বের করে চিকিৎসা করানো উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ:

বেশি দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ক্রনিক কনস্টিপেশনের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন-

- খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণঃ কম আঁশযুক্ত খাবার খেলে অনেক শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে পারে। গরুর দুধ খেলেও অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

- শারীরিক ত্রুটিঃ অ্যানোরেকটাল স্টেনোসিস বা মলদ্বার জন্মগতভাবে বন্ধ থাকলে।

- স্মায়ুতন্ত্রের ত্রুটিঃ যেমন অ্যাগ্যাং লিওনোসিস করা, স্মায়ু ও মাংসপেশির ত্রুটি থাকলে।

- মানসিক প্রতিবন্ধী হলে।

- স্মায়ুর সমস্যা বা সেরেব্রাল পলসি থাকলে।

- শরীরের শক্তি কমে যাওয়া বা হাইপোটনিয়া হলে।

- হাইপোথাইরয়েডিজম হলে।

- বহুমূত্র রোগ হলে।

- শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে।

- রেনাল টিউবুলার অ্যাসিডোসিস হলে।

তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে বেশি। এ ধরনের শিশুর কয়েক মাস ধরে পায়খানার সমস্যা থাকে এবং বেশ কয়েক দিন পর পর মলত্যাগ করে। অনেক

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ :

- পেটে ব্যথাঃ মাঝেমধ্যে থাকে, আবার কিছু সময় থাকে না।

- খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা, ক্ষুধামন্দা ভাব দেখা দেয়।

- বমি হতে পারে বা বমি ভাব থাকতে পারে।

- শরীরের ওজন কম বাড়ে।

- পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে পেটটা শক্ত ও ফুলে আছে। মলদ্বার আর্দ্র থাকে এবং স্পিংটার খোলা থাকবে। এর ওপরই মলগুলো আটকে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে শিশুদের জন্মকালীন কিছু তথ্য নিতে হবে। যেমন-জন্মের পর পায়খানা বা মলত্যাগ করতে বিলম্বিত হয়েছে কি না, ছোটবেলায় মলত্যাগের অভ্যাস কেমন ছিল, খাওয়ার অভ্যাস কেমন ছিল, মা-বাবা ও সন্তানের মলত্যাগের অভ্যাস, মলদ্বারে ফিসার আছে কি না, স্টেনোসিস বা মলদ্বার বন্ধ কি না এবং মলদ্বারে স্পিংটারের টোন বা স্মায়ুর কার্যকারিতা ঠিক আছে কি না।

যদি স্পিংটার টাইট বা শক্ত হয়, মলদ্বার মলশূন্য থাকে, পেট ফোলা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে শিশুটির হারসপ্রুং রোগ হয়েছে। যদি স্পিংটার ঢিলা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে স্মায়ুতন্ত্রের দুর্বলতার কারণে হয়েছে।

কোমরে মেরুদণ্ডের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত রোম এবং খাদের মতো থাকলে তা জন্মগত ত্রুটি, যাকে বলে স্পাইনা বাইফিডা অকাল্টা।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা:

- শিশুকে সুস্থ ও শান্তভাবে মলত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশু যেন ব্যথা না পায় এবং মা-বাবা যেন চিন্তামুক্ত থাকেন, অস্থিরতায় না ভোগেন-সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। প্রয়োজনে বাচ্চাদের সময়মতো মলত্যাগের জন্য পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করতে হবে।

- শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে এবং আঁশযুক্ত খাবার দিতে হবে। শক্ত পায়খানা নরম করার জন্য ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

- যদি এসবে মলত্যাগ না হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে সিম্পল এনেমা দিতে হবে। বাসায় গ্লিসারিন সাপোজিটরি দেওয়া যেতে পারে। সরিষার তেল সন্তানের পেটের উপর থেকে নিচের দিকে মালিশ করবেন মালিশের পর সন্তানের পা দুটি ভাজ করে পেটের উপর হাল্কা চাপ দিলে পায়খানা হবে।

- মলদ্বারে ফিসার থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে। মানসিক কোনো সমস্যা থাকলে শিশু-মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

এসব চিকিৎসায় ব্যর্থ হলে ধরে নিতে হবে শিশুর হারসপ্রুং রোগ হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখা যায় মলদ্বার থেকে বায়োপসি করলে প্যারা সিম্পেথেটিক গ্যাংলিওনিক সেল নেই। এ রোগ সাধারণত জন্মের প্রথম মাসে ৮০ শতাংশ এবং প্রথম বছরে ৯৫ শতাংশ ধরা পড়ে। এ রোগে পেট ফোলা, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবারে অনীহা, হলুদ বমি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। 

ধন্যবাদ


আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.3k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...