48 বার ভিউ
"রোগ ব্যাধি" বিভাগে করেছেন
আমার প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে শীতকালে এটি বাড়ে। এর থেকে মুক্তি পেতে পারি কীভাবে ?


1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমায় আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যাটাক তখনই হতে দেখা যায় যখন কোনো কারণে তার ফুসফুসে বাতাস ঠিকভাবে সরবরাহ হতে পারে না। অ্যালার্জি, বায়ুদূষণ, ধুলাবালি বা ফুসফুসে কোনো ইনফেকশনের কারণে অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে আর এর ফলে দেখা দিতে পারে কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং বুক ভারী হয়ে থাকার অনুভূতি। অ্যাজমার অনেক মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট থাকলেও এমন কিছু ঘরোয়া প্রতিকার আছে যাতে এর প্রকোপ কমিয়ে আনতে পারবেন আপনি নিজেই।

১) আদা:

অ্যাজমার বিভিন্ন ওষুধ যেভাবে শ্বাসযন্ত্রের পেশি শিথিল করে কষ্ট কমিয়ে দেয় তেমনি প্রভাব রাখতে পারে আদা। আদা ব্যবহার করে বেশ কয়েক ধরনের প্রতিকার তৈরি করা যেতে পারে।

- সমপরিমাণ আদার রস, ডালিমের রস এবং মধু মিশিয়ে নিন। দিনে দুই থেকে তিনবার এক টেবিল চামচ করে এই মিশ্রণ পান করুন।

- দেড় কাপ পানিতে এক চা চামচ আদা বাটা মিশিয়ে নিন। ঘুমাতে যাবার আগে এই মিশ্রণ এক টেবিল চামচ করে পান করুন।

- এক ইঞ্চি আদা কুচি করে এক হাঁড়ি ফুটন্ত পানিতে দিন। পাঁচ মিনিট রেখে এই মিশ্রণ ঠাণ্ডা করে পান করুন।

- এছাড়াও লবন দিয়ে কাঁচা আদা খেতে পারেন।

২) সর্ষের তেল:

অ্যাজমা অ্যাটাক হলে সর্ষের তেল মালিশ করাটা বেশ উপকারী। এর জন্য অল্প একটু কর্পূর দিয়ে সর্ষের তেল গরম করে নিতে হবে, এরপর তাপমাত্রা কুসুম গরম হয়ে আসলে তা রোগীর বুক ও পিঠে মালিশ করতে হবে। দিনে কয়েকবার মালিশ করা হলে কষ্ট কমে আসবে।

৩) ডুমুর

শ্বাসকষ্ট কমানো এবং শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে ডুমুরের প্রভাব অতুলনীয়। এর জন্য সারা রাত তিনটি শুকনো ডুমুর এক বাটি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ওই পানি খালি পেটে পান করতে হবে এবং খেতে হবে ওই তিনটি ডুমুর। মাস দুয়েক এই অভ্যাস বজায় রাখলে অ্যাজমার প্রকোপ নিজ থেকেই কমে আসবে।

৪) রসুন

ফুসফুসে জমে থাকা কফ দূর করে এবং অ্যাজমার কষ্ট দ্রুত কমায় রসুন।

- ১০-১৫ টি রসুনের কোয়া ফুটিয়ে নিন আধা কাপ দুধে। দিনে একবার এই মিশ্রণ পান করুন।

- রসুন দিয়ে চা তৈরি করেও পান করতে পারেন। এর জন্য এক পাত্র ফুটন্ত পানিতে ফেলে দিন ২-৩ টি রসুনের কোয়া এবং ৫ মিনিট সেভাবেই রেখে দিন। তাপমাত্রা কমে এলে পান করুন।

৫) কফি

কফিতে থাকা ক্যাফেইন অ্যাজমার কষ্ট কমাতে সহায়ক। যত কড়া কফি পান করবেন তত দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে। তবে দিনে তিন কাপের বেশি কফি পান করবেন না।

৬) ইউক্যালিপটাস তেল

এতে থাকে ইউক্যালিপটল নামের এক রাসায়নিক যা কফ কমাতে সাহায্য করে। একটি টাওয়েলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল নিয়ে ঘুমানোর সময়ে তা আপনার শিয়রে রাখতে পারেন। ফলে আপনার নিঃশ্বাসের সাথে এটি শরীরে প্রবেশ করবে এবং ঘুমের সময়ে শ্বাসকষ্ট হবে না। এছাড়াও একটি পাত্রে ফুটন্ত পানি নিয়ে তাতে ২-৩ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল নিয়ে নিঃশ্বাসের সাথে এই বাষ্প গ্রহণ করতে পারেন। এতে ফলাফল পাবেন দ্রুত।

এছাড়া :

শ্বাসকষ্টজনিত বুকে ব্যথা হতে মুক্তির ৬টি উপায় : প্রতিটি নিঃশ্বাসের মূল্য তাঁরাই ভালো বোঝেন যাঁরা শ্বাসকষ্টের রোগী! বিশেষ করে যাঁরা অ্যানজাইনা বা শ্বাসকষ্টমূলক হৃদশূলে আক্রান্ত, তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পান এর যন্ত্রণা। ধমনীর কার্যক্রম কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হলে হৃত্‍পিণ্ড অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে থাকে। এক পর্যায়ে হতে থাকে হৃদশূল বা বুকে ব্যথা। অ্যানজাইনা বা শ্বাসকষ্টমূলক হৃদশূলের প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকার জন্য রইল ৬টি উপায় বিস্তারিত : http://www.priyo.com/2013/10/08/35076.html

ঘুমের মাঝে শ্বাসকষ্ট হয়? : কারো কি রাতের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে শ্বাসরোধ হয়ে যাওয়ার মতো করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে? এতে মনে হতে পারে কোনো কিছু যেন তার শ্বাসতন্ত্রে আটকে যাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। তিনি যদি খুব স্থূলকায় হন এবং এ সমস্যা যদি অনেক দিনের হয় এবং নিদ্রাকালীন অতিরিক্ত নাক ডাকেন তবে তা এক সময় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাই সে অবস্থা দেখা দিলে তাকে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।

ধন্যবাদ


আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
26 সেপ্টেম্বর "রোগ ব্যাধি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সাদিয়া

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.1k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...