756 বার ভিউ
"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে করেছেন

কচ্ছপ বা কাছিম খাওয়া কি হালাল নাকি হারাম? যদি হারাম হয়, তাহলে কোন কারণে হারাম?

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

খাওয়া প্রসঙ্গে তো অনেক কথা চলে আসে। অনেকে মনে করে, আমরা যেটা খাই না, সেটাই বোধ হয় হারাম। আসলে হালাল-হারামের বিধান তো আমরা দিতে পারি না।কাছিম বা কচ্ছপ খাওয়া হালাল। তবে কোনো অঞ্চলে যদি কেউ না খায়, রুচিতে না কোলায় তাহলে তারা খাবে না। তবে আলেমদের মধ্যে এ মাসয়ালা নিয়ে দ্বিমত আছে। কেউ কেউ হারামও বলেছেন। হারাম যাঁরা বলেছেন, কচ্ছপের ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে, কচ্ছপের মধ্যে হিংস্রতা রয়েছে এবং এটি খবিস বা নোংরা ধরনের। যেহেতু এর মধ্যে নোংরামি আছে, তাই তাঁরা এটাকে পছন্দ করেননি। তাই একজন প্রসিদ্ধ ইমাম কচ্ছপকে খাওয়ার ব্যাপারে বলেছেন যে, ‘এটি জায়েজ নেই।’আবার আমরা যদি হাদিসের সাধারণ বক্তব্য দেখি, সেখানে সমুদ্রের সব প্রাণীকে রাসূল (সা.) হালাল ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ সবই হালাল।  সুতরাং এর মধ্যে কচ্ছপ তো পড়বেই। যেহেতু কচ্ছপ সমুদ্র বা নদীর মধ্যেই পাওয়া যায়। তাই এটা যদি কেউ খান, এতে তিনি গুনাহ করেননি, হারাম কাজ করেননি। এটি খাওয়া জায়েজ। তবে বিষয়টি রুচির সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন : গুইসাপ জাতীয় একটা প্রাণী, যেটাকে কোনো কোনো এলাকায় শাণ্ডা বলা হয়ে থাকে, রাসূল (সা.)-এর সামনে কেউ খেয়েছেন। কিন্তু রাসূল (সা.) এটি খান নাই, উনার রুচিতে আসেনি। যেহেতু কিছু কিছু বিষয় রুচির সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেহেতু যে কচ্ছপ খাচ্ছে না, তাঁকে জোর করে খাওয়ানোর কোনো দরকার নেই। এটি খেয়াল রাখতে হবে। কিন্তু কেউ খেলে সেটাকে হারাম বলতে গেলে দলিল দিতে হবে। যেহেতু এটি সহিহ বর্ণনার মধ্যে হারাম সাব্যস্ত হয়নি।

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

প্রথম প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই মাখলুকাতের মধ্যে, সৃষ্টি জগতের মধ্যে যা কিছু হচ্ছে, কেয়ামত পর্যন্ত যা হবে, সবকিছু আল্লাহু রাব্বুল আলামিন লাওহে মাহফুজে আল কিতাবের মধ্যে লিখে দিয়েছেন। কলমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কলম লিখে ফেলেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আপনার আমার গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। এটা আমাদের দায়িত্বও না, কাজও না। কারণ সেই লেখা সম্পর্কে জ্ঞান তো আমাদের নেই। এ নিয়ে আমাদের বাহাস করার, গবেষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই লেখা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন লিখেছেন, যেহেতু আল্লাহু সুবহানাহুতায়ালা জানেন।

আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমল করার জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসের মধ্যে বলেছেন, ‘তোমরা আমল কর, তোমাদের আমল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ করা তার জন্য সহজতর করে দেওয়া হবে।’ তুমি কাজের জন্য এগিয়ে যাও। যে কাজ করতে পারবে, সেই এগিয়ে যেতে পারবে। সুতরাং তাকে ওই আল্লাহু তায়ালার লেখনী নিয়ে গবেষণা করার দায়িত্ব বা এ নিয়ে চিন্তা করার দায়িত্ব তার নয়।

আর তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করা আহলে সুন্নাত আল জামাতের আকিদা অনুযায়ী শুদ্ধ নয়। কোনো ব্যক্তি একথা বলার সুযোগ নেই যে, আমার তাকদিরে আছে বলেই এ কাজটি হয়েছে। কেউ বললে তিনি তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করলেন। কেউ বললেন, ‘আমিতো ফকির, কারণ আল্লাহ আমাকে ফকির করেছেন’। এটা ভুল কথা। আবার গাড়িতে দুর্ঘটনার শিকার হলে বললেন, ‘আল্লাহ আমাকে পাইছেন, গাড়ি দিয়ে আমাকে অ্যাকসিডেন্ট করাইছেন।’ এগুলো তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করা, যা একেবারে জঘন্য কাজ, হারাম কাজ। এটাকে আহলে সুন্নাত আল জামাত কখনো তাকদিরকে দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য ব্যবহার করেন না।

এ জন্য তাকদিরের বিষয়টি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এলমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়। এটি নিয়ে বান্দার এলম নেই। বান্দার এ নিয়ে গবেষণা করারও প্রয়োজন নেই, এর পেছনে সময় নষ্ট করারও প্রয়োজন নেই। বান্দা ভালো কাজ করার চেষ্টা করবে। তাকে পথ দেখানো আছে। ‘আমরা তাকে দেখিয়ে দিয়েছি দুটি পথ।’ সুতরাং যেটি ভালো পথ, বান্দা সেদিকে অগ্রসর হতে থাকবে। চেষ্টা করে যাবে, যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহু তায়ালার তওফিক অনুযায়ী আগাতে থাকবে, এবং দেখবে যে চেষ্টা করলে তার জন্য পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আর সে যদি অপেক্ষা করে থাকে, যে আল্লাহ আমার জন্য কি রেখেছে, তাহলে সে কিছুই করতে পারবে না। কারণ সে তো জানে না, জানতে পারবেও না, সুযোগও নেই।

এ জন্য একজন নর বা নারী যদি বিয়ের জন্য সিদ্ধান্ত নেন, অগ্রসর হন, তাহলে তাদের কর্মফল তাঁরা পাবেন। আল্লাহ এটা জানেন বলে আগে থেকে লিখে রেখেছেন। সেটা নিয়ে গবেষণা আমাদের কাজ নয়।

দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে, পুরুষদের বাম পাজর থেকে মহিলাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, কথাটি শুদ্ধ নয়। বরং আদম (আ.)-এর বাম পাজর থেকে হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে সৃষ্টির শুরুতে। এটা সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

953 জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...