42 বার ভিউ
"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে করেছেন

সুনির্দিষ্টভাবে আল্লাহ বলেছেন যে, হজের মাসসমূহ সুবিদিত, তোমরা সেই সমস্ত মাসসমূহে হজ করো, তবে নির্দিষ্ট একটা দিনে হজ কেন? এবং একটা দিনে হজ করতে যেতে মানুষ এত ম্যাসাকার হয়, মানুষ সাঈ করতে পারে না, হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করতে পারে না, পদদলিত হয়ে মারা যায় ।

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন

হজের মাসগুলো কেন সেটা কিন্তু ওই আয়াতের মধ্যে স্পষ্ট করা আছে। সেটা হলো হজের এহেরাম করার সুবিধার জন্য। হজের বিধানগুলো একদিনে পালন করা হচ্ছে না, বিধানগুলো পালন করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। যেমন : তাওয়াফ করতে গিয়ে মানুষ একজন আরেকজনের গায়ের ওপর পড়ে যায় সেটা তার দায়িত্ব। কিন্তু তাওয়াফ করতে গিয়ে কোনো মানুষের দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়টি এ বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটা মানুষের শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়। আমরা লক্ষ করেছি যে, মানুষের অজ্ঞতার কারণে, শৃঙ্খলাজ্ঞান না থাকার কারণে অথবা সভ্যতার জ্ঞান না থাকার কারণে মানুষ বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।

এখানে প্রসঙ্গত জামারায় পাথর মারার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আবেগে আপ্লুত হয়ে যাঁরা পাথর মারেন, জুতা মারেন সেখানে তারা এমন একটা উত্তেজনায় থাকেন, যেগুলো হজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

না, এগুলো পুরোপুরি ভুল ধারণা। জামারাতে পাথর মারার জন্য দীর্ঘ সময় রয়েছে। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাথর মারা যায়। আবার আপনি যদি কোনো কারণে সন্ধ্যায় মারতে না পারেন তবে রাতে মারতে পারবেন। কিন্তু আমরা নিজেরাই জিনিসগুলোকে কঠিন করেছি। একদল লোক ইসলামের এই বিষয়ে জ্ঞান না রাখার কারণে নিজেরা বিষয়গুলো কঠিন করে নিয়েছে এবং কঠিন করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।

আপনি আরেকটি বিষয় তুলে ধরেছেন হজরে আসওয়াদে চুম্বন, এটি হজের জন্য বাধ্যবাধকতাপূর্ণ কোনো বিষয় নয়। এটাও সুন্নাত বা মুস্তাহাব বিষয়। যদি কেউ না পারেন না করলেন, এতে হজে কোনো ক্ষতি হবে না। এটা বাধ্যতামূলক না। তবে কাউকে কষ্ট দিয়ে, কারো মাথার ওপর দিয়ে, ধাক্কাধাক্কি করে, কাউকে ঠেলে ফেলে এ কাজটি করা ইসলামের পরিপন্থী কাজ।

আর আপনার মাধ্যমে দর্শকদের একটা কথা বলতে চাই যে, হজের বিধান যতটুকু সহজ, এর চেয়ে আমরা নিজেরাই না জানার কারণে এটাকে কঠিন করে নিয়েছি।

আর এই ধারণা ভুল যে আমরা একদিনে পালন করছি। তা নয়। শুধু আরাফাতে অবস্থানকে আল্লাহ একদিনে করেছেন। বাকি কাজগুলো বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন প্রহরে করা হয়েছে। হজের পুরো বিধান একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হজের একটি ফরজকে আল্লাহ পছন্দ করেছেন, সেটি হলো আরাফাত ময়দানে একদিন অবস্থান করা। এটা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী মহানবী (সা.) এভাবেই করতে বলেছেন। তাই এটা শুধু আজকে নয়, যুগে যুগে সমস্ত নবী-রাসুল এভাবে আরাফাতে অবস্থান করেছেন।

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.6k টি প্রশ্ন

7.5k টি উত্তর

250 টি মন্তব্য

1.1k জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...